নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমানে স্বতন্ত্র পরিচালক দ্বারা পরিচালিত এনআরবিসি ব্যাংকের এর সুনামকে ক্ষুন্ন করার জন্য তথাকথিত ফরেন্সিক অডিটর কেপিএমজি বাংলাদেশ বা রহমান হক চার্টার্ড একাউন্টেন্ট একটি মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে। ব্যাংকের সিবিএস সিস্টেমে কখনোই কোন ডাটা মুছে ফেলা যায় না এবং এ ধরনের সফটওয়্যার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে। কেপিএমজি নামক অডিট ফার্মটি কিছু শিক্ষানবিশ ছাত্রদের দিয়ে এ ধরনের একটি ফরেন্সিক নামক অডিট করে যাহা খুবই নিম্নমানের ও পেশাদারিত্বের কোন নিয়ম মানা হয়নি।
যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও আইটি বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করে জানা যায় যে, ব্যাংকের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের চাহিদা মোতাবেক সফটওয়্যার এর বিভিন্ন টেবিল থেকে সাময়িক রিপোর্ট তৈরি করা হয় এবং ওই রিপোর্টের কাজটি শেষ হলে এই ডাটাগুলো মুছে ফেলা হয়। কোন অবস্থাতে ব্যাংকের বিভিন্ন ডিভিশন ও শাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাদের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ইউজার আইডি আছে তাদের এন্ট্রিকৃত কোন ডাটা মুছে ফেলার কোন সুযোগ নেই। শুধুমাত্র সিবিএস সিস্টেমের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ডাটা থেকে রিপোর্ট তৈরি করা হলে সেই রিপোর্টটি পরবর্তীতে কার্যকারিতা না থাকলে মুছে ফেলা হয় কারণ এর জন্য অতিরিক্ত সার্ভারের প্রয়োজন পড়বে।
এই বিষয়ে সফটওয়্যার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লিডস কর্পোরেশন তারা তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করে যে, এ ধরনের রিপোর্ট তৈরি করা হলে তা আর রাখার দরকার নাই। বর্তমান লোভী পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ভুলেভরা ফরেন্সিক অডিটকে সঠিক ও ক্ষমতা ধরে রাখার অভিপ্রায় এ ধরনের রিপোর্ট সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়েছে যাহা খুবই অনভিপ্রেত এবং ব্যাংকের আমানতকারীদের আস্থা বিনষ্ট করার পায়তারা মাত্র।
এনআরবিসি ব্যাংকের ডাটা মুছে দেবার যে বিষয় হয়েছে, তা বেশ কিছু বিকৃত এবং কুরুচি পূর্ণ ভাবে ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারমান জনাব প্রধানিয়া, ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব তৌহিদ আলম, চিফ লিগ্যাল অফিসার এস কে তারেক, মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান জনাব ফয়সাল আহমেদ, হেড অফ ফাইনান্স জনাব রাসেদুল ইসলাম এর যোগসাজশে এবং নিজেদের অপরগতা ও অপকর্ম ঢেকে রাখার জন্য করা হয়েছে। কারন আগামি ২৫শে জুনে হতে যাওয়া এ জি এম এ যাতে ব্যাংকের ব্যার্থতা নিয়ে কোন শেয়ার হোল্ডাররা কথা তুলতে না পারেন এটি তারই একটি কুটচাল।
আসলে প্রকৃত ঘটনা টি নিম্নরুপঃ
ডিলিট কার্যক্রমের জন্য সমস্ত সম্পর্কিত টেবিলগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই টেবিলগুলোর অধিকাংশই হলো রেজিস্ট্রি, প্যারামিটার এবং টেম্পোরারি টেবিল। অ্যাপ্লিকেশন-জনিত অসঙ্গতি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট টিমের সদস্যরা প্রযুক্তিগত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই ডিলিট কার্যক্রমগুলো সম্পাদন করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো ছিল পরিচালনগত ও প্রযুক্তিগত প্রকৃতির, কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন নয়, এবং এর ফলে কোনো আর্থিক প্রভাব, অননুমোদিত সুবিধা, বা গ্রাহকের ব্যালেন্স বা অ্যাকাউন্টের কোনো কারসাজি ঘটেনি।
এটিও উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, সিবিএস প্ল্যাটফর্মটি স্থানীয় ভেন্ডর লিডস কর্পোরেশন লিমিটেড দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল এবং ঐতিহাসিকভাবে এটিতে বারবার সফটওয়্যার বাগ, ডেটার অসঙ্গতি এবং পরিচালনগত অস্বাভাবিকতা দেখা দিত। অধিকন্তু, সিবিএস দীর্ঘ সময় ধরে ভেন্ডরের সক্রিয় সমর্থন ছাড়াই পরিচালিত হয়েছিল। এই সময়ে, অভ্যন্তরীণ কারিগরি দলগুলোকে স্বাধীনভাবে সিস্টেমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হয়েছিল।
চলমান সিস্টেম স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, পর্যায়ক্রমে সংশোধনমূলক ডাটাবেস রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ত্রুটিপূর্ণ, নকল, পরিত্যক্ত বা সিস্টেম-সৃষ্ট রেকর্ড অপসারণ করা, যেগুলো অ্যাপ্লিকেশন পরিবেশে কার্য এই সংশোধনমূলক পদক্ষেপগুলো ছিল অ্যাপ্লিকেশনটির অখণ্ডতা এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কার্যক্রমে ব্যাঘাত বা অসঙ্গতি সৃষ্টি করছিল। জন্য গৃহীত কঠোরভাবে প্রযুক্তিগত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা।
COR_TRANS_GL টেবিল থেকে ডেটা মুছে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে একটি বাহ্যিক সিস্টেম ইন্টারফেস থেকে প্রাপ্ত ভুল স্বয়ংক্রিয় ডেটা ইনপুটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ত্রুটিপূর্ণ পোস্টিংগুলোর ফলে একাধিক শাখার দিন-শেষের ক্লোজিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মী শাখাগুলোর দিন-শেষের ক্লোজিং ব্যর্থতা ও লেনদেনের অমিল সংক্রান্ত অসংখ্য কল ও ইমেল পেয়েছিল। কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং দিন-শেষ (EOD) প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য, প্রযুক্তিগত সংঙ্গে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ভুল লেনদেনগুলো রোলব্যাক/মুছে ফেলা হয়েছিল।
এটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, EOD কার্যকর হওয়ার আগে, একই কর্মদিবসের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ জিএল লেনদেন মুছে ফেলার ফলে কোনো আর্থিক প্রভাব পড়ে না, কারণ EOD প্রক্রিয়ার সময় চূড়ান্ত ব্যালেন্স আপডেট এবং সমন্বয় করা হয়। ভুল এন্ট্রিগুলো অপসারণের পর, প্রভাবিত শাখাগুলো সফলভাবে দিন-শেষের ক্লোজিং সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল। প্রভাবিত লেনদেনগুলো পরবর্তীকালে সঠিকভাবে পুনরায় পোস্ট করা হয়েছিল এবং প্রাসঙ্গিক লেনদেনগুলো বর্তমানে সিস্টেমে তাদের সঠিক রূপে উপলব্ধ রয়েছে।
একইভাবে, লেনদেনের অমিল সমাধান করতে, শাখা ভারসাম্য সক্ষম করতে এবং রাতের EOD প্রক্রিয়ার সফল সম্পাদন সহজতর করার জন্য প্রযুক্তিগত সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে EODSUPER ব্যবহারকারী দ্বারা সীমিত সংখ্যক সারি মুছে ফেলা হয়েছিল। এই পদক্ষেপগুলো ছিল শুধুমাত্র সিস্টেমের স্থিতিশীলতা এবং নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য গৃহীত পরিচালনগত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা।
SEC_USER_LOGIN_INFO টেবিল থেকে রেকর্ড মুছে যাওয়ার মূল কারণ নির্ণয় করা যায়নি। উল্লেখ্য যে, SEC_USER_LOGIN_INFO টেবিলে শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য সংরক্ষিত থাকে, অপরদিকে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপের রেকর্ড SEC_USER_ACTIVITY_LOG টেবিলে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। যাচাই করে দেখা গেছে যে, SEC_USER_ACTIVITY_LOG টেবিলে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপের সমস্ত লগ রেকর্ড অক্ষত ও অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাস্তবে, লিডস কর্পোরেশন লিমিটেড দ্বারা তৈরি ব্যাংকআল্টিমাস সিবিএস প্ল্যাটফর্মের মধ্যে বাগ ফিক্সিং, সফল দিন-শেষের প্রক্রিয়াকরণ এবং অন্যান্য সিস্টেম-সম্পর্কিত সমস্যার সমাধানের জন্য সংশোধনমূলক ডেটা মুছে ফেলা ও পরিষ্করণ কার্যক্রমগুলো সাধারণ প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ছিল। প্ল্যাটফর্মের মধ্যে বারবার দেখা দেওয়া সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা, অ্যাপ্লিকেশন বাগ, যথাযথ কনফিগারযোগ্যতার অভাব এবং পরিচালনগত অসঙ্গতির কারণে এই কার্যক্রমগুলো প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল।
এ বিষয়ে লিডস-এর প্রতিক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো: (২০শে অক্টোবর, ২০২৫ ইং তারিখে লিডস থেকে পাঠানো ইমেল সুত্রমতে)
আমাদের কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস)-এ, ট্রানজ্যাকশন মডিউলটি একটি রেজিস্টার-ভিত্তিক আর্কিটেকচারে কাজ করে, যেখানে ডেটা চূড়ান্ত ট্রানজ্যাকশন টেবিলের সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য মধ্যবর্তী টেবিল এবং লগ টেবিলের মধ্য দিয়ে যায়। যেহেতু সিবিএস দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য নির্ভুল গ্রাহক এবং ট্রানজ্যাকশন ডেটার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে, তাই সময়ের সাথে সাথে ডুপ্লিকেট বা অসম্পূর্ণ রেকর্ডের মতো ডেটার অসঙ্গতি জমা হতে পারে। ডেটার অখণ্ডতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে অপারেশনাল এবং এমআইএস সম্পর্কিত নির্ভুলতা ও বাগ ফিক্সিংয়ের জন্য, একটি ডেটা ক্লিনিং প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
ডেটা ডিলিট করা: ডুপ্লিকেট বা অবৈধ ডেটা রেকর্ড মুছে ফেলা। ডেটা আপডেট করা: ভুল সংশোধন করা, অনুপস্থিত তথ্য পূরণ করা এবং ডেটা ফরম্যাটকে মানসম্মত করা। এই ধরনের ক্লিনিং একটি পরিষ্কার এবং নির্ভুল ডেটাসেট বজায় রাখে, যা গ্রাহক পরিষেবার দক্ষতা বৃদ্ধি করে উদাহরণস্বরূপ, হালনাগাদ যোগাযোগের বিবরণ সময়মতো বিজ্ঞপ্তি এবং ত্রুটিমুক্ত ট্রানজ্যাকশন নিশ্চিত করে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রক্রিয়াটি কমপ্লায়েন্স, অপারেশনাল পারফরম্যান্সকে সমর্থন করে এবং সিবিএস-এর কার্যকর কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
অডিটে উল্লিখিত ডেটা মুছে ফেলার নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো আপনার অ্যাডমিনিস্ট্রেটররা ব্যবহারকারীর ত্রুটি বা আমাদের ইউজার অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্টিং (UAT)-এর আওতার বাইরে ঘটা বিরল ডেটা অসঙ্গতির কারণে প্রভাবিত অ-আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ডেটা সংশোধন করার জন্য পরিচালনা করেছিলেন। আমাদের টিম অন্তর্নিহিত সিস্টেম সমস্যাগুলো সমাধান করতে এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ক্রমাগত ফিক্স-প্যাক সরবরাহ করছে।
প্রকৃতপখ্যে, এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারমান আলী হোসেন প্রধানিয়া, ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব তৌহিদ আলম, চিফ লিগ্যাল অফিসার এস কে তারেক, মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান জনাব ফয়সাল আহমেদ, হেড অফ ফাইনান্স জনাব রাসেদুল ইসলাম এইরূপ আরও অনেক অকর্মণ্য বড় বড় পদে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ না করে মিথ্যাচার করে এন আর বি সি ব্যাংকের চরম ক্ষতি সাধন করে চলেছেন। অতি দ্রুত এদের অপসারণ করে পূর্ববর্তী এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের নিকট ব্যাংক হস্তান্তর করা উচিত।
এই বিষয় এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তৌহিদ আলমকে একাধিক বার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস করা হয়েছে সে কল রিসিভ করে নায় ও হোয়াটসঅ্যাপের এসএমএসের কোন উত্তর দেয়নি তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়াকে একাধিক বার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস করা হয়েছে সে কল রিসিভ করে নায় ও হোয়াটসঅ্যাপের এসএমএসের কোন উত্তর দেয়নি তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তৌহিদ আলম এর অবৈধ অর্থ সম্পদ ও দূর্নীতির তথ্যসহ ভিডিও নিউজ ২য় পর্বে...